04/09/2026
কাজী সাহেবের রাজনীতি: মাঠে নেই, মিছিলে নেই—তবু মনোনয়নের মঞ্চে ঠিকই হাজির!
নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম-৪
চট্টগ্রাম-৪-এর রাজনীতিতে নাকি এক নতুন রাজনৈতিক ফর্মুলা আবিষ্কার হয়েছে—
“দুঃসময়ে দেখা না দিলেও চলবে, মামলা-মোকদ্দমার ভার বইতে হবে না, জেল-জুলুমের স্বাদ নিতে হবে না, নেতাকর্মীদের খোঁজ নেওয়ারও প্রয়োজন নেই—সময়মতো মনোনয়ন পেলেই হলো!”
এই অভিনব ফর্মুলার নাম দেওয়া যেতে পারে—
‘কাজী মডেল’ রাজনীতি!
দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের রাজনীতিতে নেতাকর্মীদের অনেকেই মামলা খেয়েছেন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, গ্রেপ্তার হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন, পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকেছেন।
প্রশ্ন হলো—
সেই দুঃসময়ে কাজী সাহেব কোথায় ছিলেন?
যে নেতাকর্মীরা দিনের পর দিন মাঠে ছিলেন,
যারা মিছিল করেছে,
যারা মামলা সামলেছে,
যারা হামলা-মামলার ভয় উপেক্ষা করেছে,
যারা দলের জন্য নিজেদের ব্যবসা-চাকরি-সংসার পর্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে—
তাদের পাশে দাঁড়ানোর ইতিহাসটা কোথায়?
আরও বড় প্রশ্ন—
যাদের শ্রমে রাজনৈতিক মাঠ তৈরি হলো, তাদের খবর নেওয়ার প্রয়োজন কি কখনো অনুভূত হয়েছিল?
কেউ জেলে গেলে দেখা করতে গিয়েছিলেন কি?
কেউ মামলা খেলে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কি?
কোনো নেতাকর্মীর পরিবার বিপদে পড়লে খোঁজ নিয়েছিলেন কি?
দুঃসময়ে আহত-নির্যাতিত কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কি?
নাকি রাজনীতির সংজ্ঞাটা হয়ে গেছে—
“কর্মীরা মাঠে থাকবে, নেতা থাকবেন নিরাপদ দূরত্বে; কর্মীরা ঝুঁকি নেবে, আর সুযোগ এলে নেতৃত্বের দাবি উঠবে!”
🗞️ ‘মামলা নেই, জেল নেই—ইতিহাস কোথায়?’
রাজনীতিতে পদ-পদবি পাওয়া কঠিন নয়।
কিন্তু দুঃসময়ে দলের জন্য দাঁড়ানোই আসল পরিচয়।
একজন নেতার রাজনৈতিক মূল্য শুধু তিনি কত বড় পদে ছিলেন, তা দিয়ে নির্ধারিত হয় না।
দেখতে হয়—
কঠিন সময়ে তিনি কোথায় ছিলেন?
নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন কি না?
আন্দোলনের সময় মাঠে ছিলেন কি না?
নেতাকর্মীর বিপদে তাঁর দরজা খোলা ছিল কি না?
চট্টগ্রাম-৪-এর তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর মুখে যদি প্রশ্ন ওঠে—
«“আমরা যখন মাঠে ছিলাম, তখন তিনি কোথায় ছিলেন?”»
তাহলে সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায়িত্বও রাজনৈতিক নেতৃত্বের।
আরেকটি মজার হিসাব!
কর্মী যখন মামলা খায়—
কর্মীর সমস্যা।
কর্মী যখন জেলে যায়—
কর্মীর সমস্যা।
কর্মীর পরিবার যখন বিপদে পড়ে—
কর্মীর সমস্যা।
কর্মী যখন রাতের পর রাত মাঠে থাকে—
কর্মীর দায়িত্ব।
কিন্তু মনোনয়নের সময়?
আহা! তখন নাকি সবারই সমান অধিকার!
রাজনীতির এই অঙ্কটা তৃণমূলের কাছে একটু কঠিন।
কারণ তারা প্রশ্ন করতে শেখেছে—
“যে সময় আমাদের প্রয়োজন ছিল, তখন আপনি কোথায় ছিলেন?
আমরা কারও রাজনৈতিক অধিকার অস্বীকার করছি না।
কাজী সালাউদ্দিন সাহেব রাজনীতি করবেন—করতেই পারেন।
মনোনয়ন চাইবেন—চাইতেই পারেন।
দলের কাছে নিজের যোগ্যতা তুলে ধরবেন—সেটিও তাঁর অধিকার।
কিন্তু একই সঙ্গে তৃণমূলেরও অধিকার আছে প্রশ্ন করার—
দলের জন্য আপনার ত্যাগ কোথায়?
দুঃসময়ের ভূমিকা কোথায়?
মামলা-জেল-নির্যাতনের সময়ে আপনার অবস্থান কোথায়?
নেতাকর্মীদের পাশে থাকার নজির কোথায়?
কারণ রাজনীতি শুধু মনোনয়নপত্রের কাগজ নয়।
রাজনীতি হলো—
ঘামের ইতিহাস।
ত্যাগের ইতিহাস।
মামলার ইতিহাস।
কারাবরণের ইতিহাস।
নেতাকর্মীর বিপদে পাশে দাঁড়ানোর ইতিহাস।
আর সেই ইতিহাস যদি না থাকে, তাহলে শুধু রাজনৈতিক সমীকরণ দিয়ে চট্টগ্রাম-৪-এর মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া কঠিন।
যারা দুঃসময়ে পাশে ছিল, তাদের বাদ দিয়ে সুবিধার সময়ে নতুন করে ‘নেতৃত্বের’ দাবি—তৃণমূল নিশ্চয়ই সেই হিসাবটাও করবে।
শেষ কথা একটাই—
চট্টগ্রাম-৪ কোনো ‘মনোনয়নের পরীক্ষাগার’ নয়।
এটি ত্যাগী নেতাকর্মীদের সংগ্রামের মাঠ।
এখানে কাগজের পরিচয়ের চেয়ে মাঠের পরিচয় বড়।
দুঃসময়ে কে ছিল—মানুষ ভুলে যায়নি।
কে পাশে দাঁড়িয়েছে—কর্মীরা ভুলে যায়নি।
আর কে শুধু সুসময়ের রাজনীতিতে দেখা দিয়েছে—সেই হিসাবও তৃণমূলের খাতায় আছে।
#চট্টগ্রাম৪ #সীতাকুণ্ড #আসলামচৌধুরী #কাজীসালাউদ্দিন #তৃণমূলেররাজনীতি #ত্যাগী_নেতাকর্মী #দুঃসময়ের_সহযোদ্ধা