07/11/2025
বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা।মনোনয়ন না বদলালে চট্টগ্রামে বিএনপির ভয়াবহ নির্বাচনী বিপর্যয় ঘটবে।
সওদাগর থেকে বিশাল নেতা বনে যাওয়া এবং নিজের এলাকা ছাড়া অন্য কোনো আসন সম্পর্কে সামান্যতম ধারনা না রাখা বিএনপির স্হায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদকে জনাব তারেক রহমান দায়িত্ব দিয়েছিলেন চট্টগ্রামে নীরপেক্ষ এবং জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাই করে মনোনয়নে সুপারিশ করার জন্য। আই ওয়াশ করতে শুনা গেছে কিছু সমীক্ষা ও চালানো হয় খসরু সাহেবের নিজের নিয়ন্ত্রনে রেখে।সমগ্র চট্টগ্রাম জেলার বিএনপির অধিপতি সেজে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমকে ব্যবহার করে ভয়ানক এক বিপর্যস্ত মনোনয়ন ঘোষণা করে বিএনপি।চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১১টি আসনে আমীর খসরু এবং শামীমের মনোনয়ন সুপারিশের নামে যে বানিজ্য করেছে তাতে ৮টি আসন হাত ছাড়া হবার আশংকা দেখা দিয়েছে। আমীর খসরু ইতিমধ্যে নিজে সাঈদ আল নোমান্র আসনচট্টগ্রাম-১০ দখলে নিয়েছে,তার ছেলের জন্য চট্টগ্রাম-১১ বরাদ্দ করে রেখেছেন।আর নোয়াখালীর সুবর্নচরে জন্মগ্রহণকারী শামীম হাতিয়াতে মনোনয়ন ভাগিয়ে নিয়েছে।অবশ্য এই বানিজ্যে কি পরিমান টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।
চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ডে আসলাম চৌধুরীর মতো ৯ বছর জেল খাটা এবং প্রচন্ড জনপ্রিয় নেতাকে মনোনয়ন বন্ছিত করা হয়েছে।শুনা যাচ্ছে খসরুর বাসায় গিয়ে তাকে তেল বাজি না করার কারনে শাস্তি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সীতাকুণ্ডের নেতা কর্মীরা।এক অবিশ্বাস্য রকম হিংসার শিকার আসলাম চৌধুরী।পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট এই ব্যবসায়ী হাসিনার প্রচন্ড রোষানলে পড়ে সবকিছু হারায়।
চট্টগ্রাম-১ মিরেরসরাই আসনে ৫ আগস্টের পর দলীয় কর্মী ও পথচারী হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত নুরুল আমীন চেয়ারম্যানকে বহিষ্কার করা হয়।তার ফেসবুক থেকে জানা যায় পটিয়া মাদ্রাসা থেকে কয়েক ক্লাস পড়ুয়া এই লোক মনোনয়নের কয়েকদিন আগে কি যাদুর বলে
বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার পুর্বক মনোনয়ন পেয়ে যায়।
অথচ সাবেক দুই জন পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ নুরুল আমীন এবং সাহেদ চৌধুরীকে মনোনয়ন বন্ছিত করা হয়।
চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনে হেফাজতের নেতা মহীবুল্লাহ বাবুনগরীর হস্তক্ষেপ এবং চিঠি লিখে সুপারিশের কারনে বিএনপি ২০১৮ এর প্রার্থী কর্নেল আজিম উল্লাহ বাহারকে বাদ দিয়ে সরোয়ার আলমগীরকে দেওয়া হয়।প্রশ্ন হলো যদি হেফাজতের কোন প্রার্থীকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে এক কথা কিন্তু বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত অন্য কারো মাধ্যমে বদলানো মোটেই উচিত নয়।তারপরও দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।কিন্তু এখন আবার শোনা যাচ্ছে যেকোন কারনে সেখানে গিয়াস কাদেরকে মনোনয়ন দিতে পারে।ফটিকছড়ি আমির খসরুদের যেন এক নতুন খেলার মাঠ।আলমগীর নাজিরহাট আহমদিয়া মাদ্রাসায় পডেছে জানি কিন্তু দাখিল পাস করেছে কিনা জানি না।
চট্টগ্রাম-৩ সন্বীপ আসনে এখনো খালি রাখলেও সেখানেও নিজের লোক দেবার জন্য খসরু-শামীম এক হাট্রা।যাদের নাম শেনা যাচ্ছে সেখানেও এরকম কাউকে দেবার সম্ভাবনা বেশী।আগের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা ছাড়াও এখানে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রার্থী হলো হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা করে তোলপাড় সৃষ্টিকারী বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন।তাদের বাদ দিয়ে এক মাদক ব্যবসায়ীকে মনোনয়ন দেবার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখা যাচ্ছে।
চট্টগ্রামের বিএনপি প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম মেডামের উপদেষ্টা এবং ৩০ বছর ধরে জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম আকবর খন্দকারকে চট্টগ্রাম-৬ রাউজান মনোনয়ন দেয়া হয়নি।সেটা এখনো খালি রাখলেও শোনা যাচ্ছে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া গিয়াস উদ্দিন কাদেরকেই মনোনয়ন দেয়া হবে।গোলাম আকবররা ৪৫ বছর রাজনীতি করে এবং বিশ্বস্ত থেকেও কোন লাভ নেই।মানুষ খুন,চাঁদাবাজি এবং গুন্ডামির পুরষ্কার পাওয়া যায় কিন্তু ভাল মানুষির কোন জায়গা আজকাল কোথাও নাই।
৭০ উর্ধ্ব জনাব আকবর আর ভবিষ্যতে নির্বাচন করার বয়স থাকবে বলে মনে হয় না।
চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারীতে মনোনয়ন পাননি চাকসুর সাবেক ভিপি এবং বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক।৩০ বছরের বেশি রাজনীতি করেও দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া এক ভয়াবহ ব্যাক্তিগত বিপর্যয় এসব ৭৫ বছর বয়সী নেতাদের।মীর হেলাল অবশ্যই উপযুক্ত একজন প্রার্থী।কিন্তু তার ভবিষ্যতে অনেক সময় আছে।তার বাপের চেয়ে ও বড় এসব সিনিয়রদের বিএনপি বন্ছিত করে কোন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলা মুশকিল।সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার ফারজানা শাকিলাও এই আসনে একজন আওয়ামী লীগ কতৃক নির্যাতিত প্রার্থী।
চট্টগ্রাম-৭ রাংগুনিয়া আসনে হুমাম কাদের চৌধুরীর মনোনয়ন ঠিক আছে।হয়তো সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে বিধায় প্রার্থী বদল করেনি নাহয় এখানে ও করার সুযোগ পেত এই সিন্ডিকেট।
যাইহোক, বিভিন্ন জেলার সাথে তুলনা করলে এটা পরিষ্কার চট্টগ্রামে বিএনপির মনোনয়ন সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। আমীর খসরুদের মত অরাজনৈতিক এবং ব্যাক্তি কেন্দ্রীক মানুষের উপর নির্ভর করে বিএনপি মারাত্মক ঝুঁকি নিয়েছে।সিলেটে বেগম খালেদা জিয়ার হস্তক্ষেপে সেখানকার প্রার্থীদের অনেকটা ঠিক করে দেয়া হয়েছে কিন্তু চট্টগ্রামে ও সরাসরি হস্তক্ষেপ দরকার। কোন ভায়া মিডিয়াতে কাজ হবে না।চট্টগ্রাম-১, চট্টগ্রাম-২, চট্টগ্রাম -৩,চট্টগ্রাম-৪ এই চারটি আসন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।আমীর খসরুর বাইরে চট্টগ্রামকে দেখার কি বিএনপির হাইকমান্ডের আর কোনো পন্থা নেই?