24/03/2026
#পেকুয়া সরকারি জি.এম.সি ইনষ্টিটিউশন এলামনাই এসোসিয়েশনের ঈদ পুনর্মিলনী ও পারিবারিক মিলনমেলা ২০২৬ সম্পন্ন
পেকুয়া, কক্সবাজার, ২২ মার্চ, ২০২৬
#শতবর্ষী বিদ্যাপীঠ পেকুয়া সরকারি মডেল জি.এম.সি ইনষ্টিটিউশন এলামনাই এসোসিয়েশন-এর উদ্যোগে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘ঈদ পুনর্মিলনী ও পারিবারিক মিলনমেলা ২০২৬’। রবিবার (২২ মার্চ) দুপুর ২টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই মিলনমেলায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
#প্রধান অতিথির বক্তব্য
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, "আমরা এমন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করি, যা আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ও সফল পথ সুগম করবে।" শতবর্ষী এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এমন সফল আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
#বিশেষ অতিথিবৃন্দ ও আলোচনা সভা
এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রফেসর আমিরুল মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শাব্বির ইকবাল সুমন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন।
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি মশরুর মাওলা।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম।
পেকুয়া-চকরিয়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক হামিদ হোসেন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শাফায়েত আজিজ রাজু, আলী আহসান চৌধুরী, মারুফা দিদা, বীর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিনসহ প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য রক্ষা এবং প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির বিষয়ে আলোকপাত করেন।
#স্মৃতির আঙিনায় অম্ল-মধুর কৈশোর: ৩০-৪০ বছর আগের ‘ডাব ও ছাগল চুরি’র গল্পে মাতোয়ারা প্রাঙ্গণ
শতবর্ষী জি.এম.সি ইনষ্টিটিউশন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত পুনর্মিলনীর সবচেয়ে প্রাণবন্ত ও আবেগঘন অংশ ছিল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ পর্ব। মঞ্চের বাহিরে যখন প্রবীণ থেকে নবীন—একে একে সতীর্থরা দাঁড়িয়ে তাঁদের স্কুল জীবনের ধুলোবালি মাখা দিনগুলোর কথা বলছিলেন, তখন প্যান্ডেল হাসির রোলে ফেটে পড়ে।
স্মৃতিচারণের এই আসরে উঠে আসে আজ থেকে ২০ বা ৩০ বছর আগের সেই রোমাঞ্চকর সব গল্প। কেউ স্মৃতিচারণ করছিলেন দলবেঁধে ডাব চুরি কিংবা অন্যের ছাগল চুরির সেই মজার সব দস্যিপনার কথা, যা শুনে উপস্থিত সকলেই ক্ষণিকের জন্য অতীতে ফিরে যান। কেউ আবার শোনালেন ক্লাসের ফাঁকে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে দলবেঁধে করা সেই চিরচেনা দুষ্টুমির গল্প। শিক্ষকদের শাসন, প্রিয় বন্ধুর সাথে টিফিন ভাগ করে খাওয়া আর স্কুল পালিয়ে আড্ডা দেওয়ার সেই সোনালী দিনগুলোর গল্পে মেতেছিলেন নবীন-প্রবীণ সবাই।
দীর্ঘ সময় পর পুরনো বন্ধুদের ফিরে পেয়ে প্রত্যেকেই যেন মুহূর্তের জন্য সেই চঞ্চল কৈশোরে হারিয়ে গিয়েছিলেন। একে অপরের সাথে কোলাকুলি, করমর্দন আর অন্তহীন আড্ডায় সবাই ছিলেন অত্যন্ত উৎফুল্ল। পুরনো দিনের সেই দুষ্টুমি আর বন্ধুত্বের অটুট বন্ধন প্রমাণ করে দিল—সময় বদলে গেলেও শতবর্ষী এই বিদ্যাপীঠের প্রতি টান এবং ছাত্রজীবনের সেই অকৃত্রিম বন্ধুত্ব আজও সবার হৃদয়ে অমলিন ও অম্লান হয়ে আছে।
#মেজবানি স্বাদে তৃপ্তি আর সুরের মূর্ছনায় মাতোয়ারা পুনর্মিলনী
আলোচনা সভার গুরুগম্ভীর পর্ব শেষে শুরু হয় ঐতিহ্যের আমেজ। আমন্ত্রিত অতিথি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মানে আয়োজন করা হয় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি ভোজ। ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত আর মেজবানি মাংসের সেই পরিচিত স্বাদ উপস্থিত সবাইকে এক অনাবিল তৃপ্তি দেয়। সতীর্থদের সাথে বসে একসাথে দুপুরের এই ভোজ যেন আড্ডার আনন্দকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতি কাটিয়ে মঞ্চে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। চট্টগ্রামের প্রথিতযশা শিল্পীদের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সুরের মূর্ছনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত সকলে। একের পর এক লোকজ ও আধুনিক গানের ছন্দে মেতে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। তবে অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল জুনিয়র ব্যাচগুলোর প্রাণবন্ত নাচানাচি। তাদের ছন্দময় পারফরম্যান্স আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাস গ্যালারিতে থাকা সিনিয়র ব্যাচের ভাই-বোনদেরও হাততালি দিতে বাধ্য করেছে। গান, আড্ডা আর নাচের এই জাদুকরী আবহে শতবর্ষী জি.এম.সি ইনষ্টিটিউশন প্রাঙ্গণ যেন আজ হয়ে উঠেছিল এক টুকরো আনন্দপুরী।
#র্যাফেল ড্র-এর টানটান উত্তেজনা ও পুরস্কারের উৎসব ও সমাপনী
অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে ছিল বহুল প্রতীক্ষিত এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট ‘র্যাফেল ড্র’। পুরো প্রাঙ্গণ জুড়ে তখন পিনপতন নীরবতা আর টানটান উত্তেজনা। মোট ৩০টি আকর্ষণীয় পুরস্কারের এই লড়াইয়ে কার ভাগ্যে কী জোটে, তা নিয়ে সবার মাঝেই ছিল অন্যরকম এক কৌতূহল।
অনুষ্ঠানের এই পর্বে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন জি.এম.সি ইনষ্টিটিউশনের প্রবাদপ্রতিম সাবেক প্রধান শিক্ষক জনাব এ.এম.এম শাহজাহান চৌধুরী। তিনি শুধু পুরস্কার বিতরণই করেননি, বরং পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে উপস্থিত থেকে তাঁর প্রিয় প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা প্রদান করেন।
পুরস্কার বিজয়ীদের এক নজর:
১ম পুরস্কার (স্মার্ট টিভি): ভাগ্যের পরীক্ষায় বাজিমাত করে প্রথম পুরস্কার জিতে নেন ১৯৮৬ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আকলিমা ফেরদৌসী পলি।
২য় পুরস্কার: দ্বিতীয় পুরস্কারের তালিকায় নাম লেখান পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম।
৩য় পুরস্কার: তৃতীয় পুরস্কারের গৌরব অর্জন করেন ১৯৯৮ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক মো. ফারুক।
অগ্রজ ও অনুজ সতীর্থদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ‘অসাধ্য সাধন’ এবং সফল আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি সকলের স্মৃতিতে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে ভাস্বর হয়ে থাকবে।
বেলাল মাহমুদ বাবুল
সাংগঠনিক সম্পাদক
পেকুয়া সরকারি মডেল জি.এম.সি ইনষ্টিটিউশন এলামনাই এসোসিয়েশন