02/05/2022
২০০৪ সালের ঈদুল ফিতরের দিনটিই ছিলো আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর দিন!!
এক যুগ ৬বছর আগের ঘটনা, আমি তখন ঈদের খুশিতে আত্বহারা ছিলাম কারণ ঈদের দিনে অনেক খেলনা কিনবো, অনেক জায়গায় বেড়াতে যাবো আরও কত কি! ঈদের আগেরদিন সন্ধাবেলায়, সবাই যখন ইফতার আহারে ব্যস্ত, ঠিক তখন আমার আব্বু অজ্ঞান হয়ে যান, খরব শুনে বাড়িতে অনেক মানুষ ছুটে আসে, তারপর আব্বুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, সেখান থেকে পরে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করায়।
তখন বাড়িতে সবাই কান্না করছিলো কিন্তুু সে সময়ে আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। তখনকার সময়ে টেলিফোন যোগাযোগ সবযায়গায় এভাইলেবল ছিলো না তাই বাসা থেকে কেউ জানতো না চমেকে কি হচ্ছে বা আব্বুর তখনকার অবস্থা।
বাড়িতে সবাই কান্নাকাটি করছিলো, সন্ধার পর রাত পেরিয়ে সকালে ঈদ। সেদিনটা সবার জন্য আনন্দের হলেও আমাদের জন্য ছিলো কান্নার। ঈদুল ফিতরের দিন সম্ভবত সকাল ১১টা দিকে আব্বু চলে গিয়েছিলেন না ফেরার দেশে । ঈদের দিন সন্ধায় ও-ও-ও শব্দে আকাশ-বাতাস ভাড়ি করে বাসার সামনে একটি এম্বুলেন্স আসে। এম্বুলেন্সটি যখন বাসার সামনে আসে, তখন পুরো বাড়ি কান্নায় ফেটে পরে। আমি তখনও বুঝতে পারিনি কি হতে চলেছে।
সেদিন সবার ঈদ যেন কান্নাপুরিতে রুপ নেয়, দুজন লোক আব্বুকে এম্বুলেন্স থেকে নামাচ্ছে, কেউ মাটি খুড়ছে, কেউ আবার আব্বুকে গোসল করাতে নিয়ে যাচ্ছে আর আমি অপেক্ষা করছিলাম ঈদের দিনে কেনা খেলনাগুলো আব্বুকে দেখানোর জন্য। ফুফুরা আমাকে বুঝানোর চেস্টা করছে যে আব্বু নেই, কিন্তু আমার কোন ভাবেই বিশ্বাস হচ্ছিলো না।
অবশেষে যখন আব্বুকে খাটিয়াতে করে নিয়ে যাচ্ছিলো, তখন মনে হচ্ছিলো আমাকে কেউ সমুদ্রে ফেলে আব্বুকে নিয়ে যাচ্ছে । আর আজও সেই সমুদ্রে দাঁড় ছাড়া পরে আছে।।
আমার কাছে ঈদুল ফিতর মানেই ভয়ংকর দিনটিকে মনে করা। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, আর কোন শিশুর ঈদ যেন আমার ঈদের মতো না হয়।।