01/04/2026
#সংবাদ_বিজ্ঞপ্তি
১ এপ্রিল ২০২৬
স্কুল-কলেজে ৩ দিন অনলাইন ক্লাস চালুর ভাবনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট
জ্বালানি সংকটের কথা বলে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ক্লাস চালুর কথা ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল ৩১ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের একথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এই সিদ্ধান্তকে অবিবেচনাপ্রসূত ও শিক্ষাবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।
আজ ১ এপ্রিল সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের পদক্ষেপ শিক্ষাব্যবস্থাকে আরো অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে। করোনা মহামারির সময় অনলাইন ক্লাস চালুর ফলে যে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছে তা আমরা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষমতা দুর্বল হয়েছে, মনোযোগ কমেছে এবং জ্ঞান অর্জনের গভীরতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ব্যর্থ অভিজ্ঞতা থেকে কোনো শিক্ষা না নিয়ে আবার একই পথে হাঁটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং শিক্ষাবিরোধী। অনলাইন ক্লাসের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইসের ওপর অতিনির্ভরতা ও আসক্তি ভয়াবহভাবে বেড়েছে। এটি শুধু শিক্ষাজীবন নয়, মানসিক ও সামাজিক বিকাশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”
নেতৃবৃন্দ আরো উল্লেখ করেন, “ সরকার একদিকে বলছে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। আবার জ্বালানি সংকটের কথা বলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইন ক্লাস চালুর কথা ভাবছে। এটা সম্পূর্ণ দ্বিচারিতা। সমস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, বিলাসবহুল সব আয়োজন, এসি, আলোকসজ্জা সব চলছে। বন্ধ শুধু স্কুল-কলেজ!
বিগত আওয়ামী সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় অনলাইন-অফলাইনকে একত্রিত করে ‘ব্লেন্ডেড লার্নিং সিস্টেম’ চালু করতে চেয়েছিলো। বিগত সময়ে আমাদের সংগঠন ব্লেন্ডেড লার্নিং সিস্টেমের বিরোধিতা করেছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষানুরাগী সচেতন মহলের বিরোধিতার কারনে সরকার এটা চালু করতে পারেনি। বর্তমান সরকার জ্বালানি সংকটকে অজুহাত করে বাস্তবে সুকৌশলে ব্লেন্ডেড লার্নিং সিস্টেম চালু করতে চাচ্ছে। এই পদ্ধতি চালু এবং একে কাজে লাগিয়ে দেশি-বিদেশি পুঁজিপতি গোষ্ঠী শিক্ষাব্যবসার নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। শিক্ষা ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সুবিধার আমরা বিরোধী নই, কিন্তু ব্লেন্ডেড লার্নিং সিস্টেম শুধুমাত্র শিক্ষায় ইন্টারনেট সুবিধা নয়, বরং প্রচলিত পাঠদান পদ্ধতির বিকল্প বাণিজ্যিক প্রকল্প।
আওয়ামী লীগ সরকারের জায়গায় বিএনপি এসেছে কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আক্রমন বন্ধ হয়নি। অনলাইন পদ্ধতি কোনভাবেই শ্রেণিকক্ষের বিকল্প হতে পারে না। ব্লেন্ডেড লার্নিং সিস্টেম শিক্ষার গভীরতা ও কার্যকারিতা কমায় কারণ এখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সরাসরি মিথস্ক্রিয়া ভেঙে পড়ে। শিক্ষার্থীর সামাজিক-মানসিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে ভাবা দরকার, দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা গরীব পরিবার থেকে আসে। তারা অনলাইন ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় মোবাইল, ইন্টারনেট কোথায় পাবে? শিক্ষকদেরও অধিকাংশের অনলাইন ক্লাস করানোর জন্য দরকারি ডিভাইস এবং প্রশিক্ষণ নেই। সারাদেশে সমানভাবে প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত হয়নি। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে অনলাইন ক্লাস চাপিয়ে দিলে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য আরো বাড়বে।”
পরিশেষে নেতৃবৃন্দ, অবিলম্বে অনলাইন ক্লাস চালুর অযৌক্তিক ভাবনা প্রত্যাহার এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীর ক্লাস নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
বার্তা প্রেরক—
অরূপ দাস শ্যাম
দপ্তর সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি
মোবাইল: ০১৬৮৪-২৭৭৪০৮