27/08/2026
৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ও লালদিঘী ময়দানের সমাবেশ সফল করতে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের বিশেষ দায়িত্বশীল সমাবেশ
লংমার্চকে ঐতিহাসিক গণসমাবেশে পরিণত করতে হবে: নজরুল ইসলাম
চট্টগ্রাম, ২৭ আগস্ট: অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ এবং লংমার্চ-পরবর্তী ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানের সমাবেশ সর্বাত্মকভাবে সফল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর এক বিশেষ দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় নগর জামায়াতের দেওয়ানবাজারস্থ কার্যালয়ের বিআইএ মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ শুধু একটি কর্মসূচি নয়; এটি জনগণের ন্যায্য অধিকার, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা এবং দেশকে সংকট থেকে উত্তরণের দাবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলনের অংশ। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং জনগণের মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকটের কারণে জনগণ ও কৃষকের যে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা অবিলম্বে নিরসন করতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের কষ্ট লাঘবে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও সংকীর্ণ দলীয়করণ রাষ্ট্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখতে হবে। ৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চ ও লালদিঘী ময়দানের সমাবেশকে সফল করতে নগরীর প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায়ে ব্যাপক গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণা এবং সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ কর্মসূচিকে ঐতিহাসিক গণসমাবেশে পরিণত করতে সকল দায়িত্বশীলকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমীর মুহাম্মদ আলাউদ্দিন সিকদার, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বশর, মুহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস, সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, ডা. ছিদ্দিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন, নগর অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, নগর কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, অধ্যাপক মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসেন, কোতোয়ালী থানা আমীর আমির হোসাইন, হালিশহর থানা আমীর ফখরে জাহান সিরাজী সবুজ, বন্দর থানা আমীর মাহমুদুল আলম, ডবলমুরিং থানা আমীর ফারুকে আজম, চান্দগাঁও থানা আমীর মুহাম্মদ ইসমাইল, ড. আ ম ম মসরুর হোসাইন প্রমুখ।
সমাবেশে ৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চ ও লংমার্চ-পরবর্তী লালদিঘী ময়দানের সমাবেশকে সফল করতে নগরীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি, জনসম্পৃক্ততা, প্রচার-প্রচারণা এবং দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সর্বাত্মকভাবে সফল করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন।