16/02/2014
বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। একই সাথে স্বল্প সময়ে কমিটির তদন্ত রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি করেছে সংস্থাটি। অন্যথায় এ বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার সংস্থার সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপস্থাপনের হুশিয়ারি দেয়া হয়। পাশাপাশি দেশে সব ধরনের বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধেরও দাবি জানানো হয়।
রোববার বার কাউন্সিল ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। সংস্থাটির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সংস্থাটির নির্বাচিত নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান, অ্যাডভোকেট কাইমুল হক ও অ্যাডভোকেট মো. ইসহাক।
লিখিত বক্তব্যে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, দেশে আজ বিচার বহির্ভূত হত্যা, গুম, নির্যাতন ভয়াবহ আকারে দেখা দিয়েছে। বিরোধীদলকে নির্মূল করার জন্য সরকার ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে থেকে এখন পর্যন্ত এই হিংসাত্মক ও মানবতাবিরোধী কার্যক্রমে নিরব ভূমিকা পালন করছে। এ ব্যপারে দেশ-বিদেশের মানবাধিকার সংস্থা সরকারের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা এবং তাদের গভীর উৎকন্ঠা প্রকাশ করছেন। তিনি দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্র ও মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট উল্লেখ করে বলেন, ২০০৯ সালে ২২৯ জন, ২০১০ সালে ১১৩ জন, ২০১১ সালে ১০০ জন, ২০১২ সালে ৯১ জন, ২০১৩ সালে ৭১ জন এবং গত ১ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ পর্যন্ত ৪৪ জন বিচার-বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, এই সংখ্যা ছাড়াও বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সঙ্ঘটিত হয়েছে যা এখনোও প্রকাশের অপোয় রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সরকার বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রচ্ছন্নভাবে শিকার করে বলছে যে- এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আসলে তারা বিষয়টির তদন্ত করবে। কিন্তু দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে যে
ব্যক্তি এই ধরনের হত্যার অভিযোগ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট করতে যাবে তিনিও যে বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হবেন না, তার নিশ্চয়তা কে দিবে