03/02/2026
আমাদের মাঝে আসছে পবিত্র শবে বরাত। মুসলমানদের নিকট এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাত। এ রাতকে ভাগ্য রজনীর রাতও বলা হয়। মহান আল্লাহ তাআ'লা বান্দার ভাগ্য নির্ধারণ করেন। তাই আসুন আমরা পুরো রাতটিতে ইবাদত-বন্দেগী এবং দুআ, দরুদের মাধ্যমে পালন করি। নিচে কতিপয় করনীয় বর্জনীয় দেওয়া হলো:-
📗শবে বরাতের আমল,করণীয় ও বর্জনীয়:-
শবে বরাতে জাগরণ করলে জান্নাতের সু-সংবাদ:-
হযরত মু‘আয রা. বর্ণনা করেন,রাসূল স. ইরশাদ করেন- যে
ব্যক্তি পাঁচ রাত ইবাদত বন্দেগীতে কাটাবে তার জন্য
জান্নাত অবধারিত। ১. জিলহজ্জের আট তারিখের রাত। ২.
আরাফার রাত। ৩. ঈদুল আযহার রাত। ৪. ঈদুল ফিতরের রাত।
৫. শাবানের মধ্য রাত অর্থাৎ শবে বরাত। (আত-তারগীব
ওয়াত তারহীব: ২/১৫২)
হযরত ইবনে ওমর (রঃ) বলেনঃ পাঁচটি রজনীতে দুআ করা
হলে তা কখনো ফেরত দেয়া হয় না (অবশ্যই ক্ববুল হয়) জুমআর
রাত্র, রজবের প্রথম রাত, শাবানের পঞ্চদশ রাত এবং দুই
ঈদের রাত।
( ইমাম বায়হাকী তাঁর শুয়াবুল ঈমানে; আব্দুর রাজ্জাক তাঁর
মুসনাদে )
📗 রাতে ইবাদত করা:-
হযরত আলা ইবনে হারিস ( রহমতুল্লাহি আলাইহি ) থেকে
বর্ণিত, হযরত আয়িশা ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা ) বলেন, একবার রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম ) নামাযে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সিজদা করেন যে,
আমার ধারণা হয় তিনি হয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন
উঠে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তখন তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি
নড়ল। যখন তিনি সিজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ
করলেন, তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা বা ও
হুমাইরা! তোমার কি এ আশংকা হয়েছে যে, আল্লাহ ও তাঁর
রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি বললাম, তা নয়, ইয়া
রাসূলাল্লাহ! আপনার দীর্ঘ সিজদা দেখে আমার আশংকা
হয়েছিল, আপনি মৃত্যু বরণ করেছেন কিনা। নবীজী
( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) জিজ্ঞেস করলেন,
তুমি কি জান এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর
রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) ভাল
জানেন। রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )
বললেন, এটা হল অর্ধ শাবানের রাত। আল্লাহ তাআলা অর্ধ
শাবানে তাঁর বান্দাদের প্রতি নজর দেন এবং
ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের
প্রতি অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদেরকে ছেড়ে
দেন তাদের অবস্থাতেই। ( বায়হাকী, ৩য় খন্ড-৩৮২পৃ )
এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হল, এ রাতে দীর্ঘ নফল নামাজ
পড়া উত্তম, যাতে সিজদাও দীর্ঘ হবে। এছাড়াও এ রাতে
কুরআন তেলাওয়াত, যিকির আযকার ইত্যাদি আমল করা যায়।
শবে বরাতের নামাজ বিষয়ে একটি অলোচনা পাবেন এই
লিন্কে:-
📗 পরদিন রোযা রাখা:-
হযরত আলী ( রাদীয়াল্লাহু তাআলা আনহু ) থেকে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )
বলেছেন,পনেরো শাবানের (চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত)
যখন আসে, তখন তোমরা রাতটি ইবাদত বন্দেগীতে কাটাও
এবং দিনে রোযা রাখ। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর
আল্লাহ তাআলা পড়থম আসমানে আসেন এবং বলেন, কোন
ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করবো।
আছে কি কোন রিযিকপ্রার্থী? আমি তাকে রিযিক দিব।
এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা মানুষের
প্রয়োজনের কথা বলে তাদেরকে ডাকতে থাকেন। ( সুনানে
ইবনে মাজাহ, হাদীস-১৩৮৪, বাইহাকী-শুআবুল ঈমান,
হাদীস-৩৮২৩ )
ইমরান ইবনে হোসায়েন (রা.) বলেছেন যে, “রসূলে
পাক (স.) তাকে অথবা অপর কাউকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি
কি শাবান মাসের মধ্যভাগে (শব-ই- বরাতের) রোজা
রেখেছিলে? তিনি বললেন, না। তখন রসূলে পাক (স.) বললেন,
যখন তুমি রাখনি তখন দু’দিন (রোজার শেষে) রোজা
রেখে দিও” (মুসলীম শরীফ,হাদীস নং-২৬২২,২৬২৩,২৬২৪,ই
ফা)
📗 কবর জিয়ারত:
হযরত আয়েশা রা. বলেন, একরাতে আমি রাসূল স.কে
বিছানায় পেলাম না। তাই (খোজার উদ্দেশ্যে) বের হলাম।
তখন দেখতে পেলাম,তিনি জান্নাতুল বাকীতে আছেন।
আমাকে দেখে তিনি বলে উঠলেন, তুমি কি এ আশঙ্কা
করছো যে, আল্লাহ এবং তার রাসূল তোমার প্রতি অবিচার
করবেন ? আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল ! আমি ধারণা
করছিলাম, আপনি আপনার অন্য স্ত্রীর ঘরে তাশরীফ
নিয়েছেন। রাসূল স. বলেন শাবানের পনের তারিখ রাতে
আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং ‘বনু
কালব’ গোত্রের ভেড়ার পশমের চেয়েও অধিক সংখ্যক
লোককে মাফ করে দেন। (তিরমিযী শরীফ: ১/১৫৬)