17/05/2026
আল্লাহর দোহাই দিয়ে গরিবের ভাত চুরি, এটাই জামায়াতের "ইসলাম" চর্চা!
জামায়াত নিজেদের ইসলামী দল দাবি করে। অথচ এই দলেরই এক ইউনিট আমিরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো ৯৯ বস্তা সরকারি চাল। চালগুলো গরিবের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে মজুদ করা হয়েছিল নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরজব্বার ইউনিয়নে। অভিযুক্ত আবদুস সামাদ, জামায়াতের ওয়ার্ড আমির, এখন আত্মগোপনে। প্রশ্ন একটাই, কোন ইসলামে গরিবের খাবার চুরি করে কালোবাজারি করা জায়েজ?
ঘটনার গুরুত্ব শুধু চাল চুরিতে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন ভোটের নামে পুরো জাতির সাথে প্রতারণা করে এক অংশগ্রহণবিহীন তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে বিএনপি-জামায়াত জোট। ফেব্রুয়ারি থেকে মে, এই চার মাসে দেশ দেখেছে দুর্নীতির কী নগ্ন মহড়া। চাল চুরি তারই সর্বশেষ সংযোজন। যে দলগুলো জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি, তারা জনগণের খাবার লুটবে, এটাই স্বাভাবিক। বৈধতা না থাকলে জবাবদিহির প্রশ্নও আসে না।
আরেকটি বিষয় চোখে লাগার মতো। জামায়াত বারবার বলে বেড়ায় তারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করে। অথচ এই দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটা অংশ যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি হয়েছে, বাকিরা এখনো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এড়াতে মরিয়া। এই প্রেক্ষাপটে একজন স্থানীয় আমিরের চাল চুরির ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, এটা তাদের রাজনৈতিক চরিত্রেরই প্রতিচ্ছবি। প্রতিষ্ঠানিক দুর্নীতি আর সন্ত্রাসকে ইসলামের চাদরে মুড়িয়ে সাধারণ মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে জিম্মি করাই তাদের কৌশল।
সুবর্ণচরের ঘটনায় স্থানীয়রা জানিয়েছে, এই চাল দীর্ঘদিন ধরে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। কেউ প্রতিবাদ করলে থামিয়ে দেয়া হতো দলীয় প্রভাবে। জামায়াতের তথাকথিত নৈতিকতার বুলির পেছনে এটাই বাস্তবতা। যেখানে গরিব মানুষ সরকারি চাল পেতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে, সেখানে দলের আমির বসে বসে সেই চালের বস্তায় ফুলে ফেঁপে ওঠা লাভ গুনছেন।
মানুষের কষ্টের দিনে, ঈদের আগে এই কাণ্ড শুধু অপরাধ নয়, এটা বিবেকহীনতার চূড়ান্ত নমুনা।
https://www.agamirsomoy.com/country/fq6htwqpk7hp