03/05/2024
মাছচাষে নমুনায়ন (Sampling):
সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ................................
আশির দশক থেকে এদেশে বদ্ধ জলাশয়ে মাছচাষের সূচনা হয়। 'মাছে-ভাতে বাঙ্গালী' প্রবাদের মধ্যে আমাদের অতীত ঐতিহ্যমন্ডিত কৃষ্টি-সংস্কৃতি
বিদ্যমান।
অতীতে মুক্ত জলাশয়ে মাছের প্রাচুর্য ছিল;
নদী-নালা,
খাল-বিল, প্লাবনভূমি, বর্ষাপ্লাবিত ধানক্ষেত, ডোবা, পুকুর, দীঘি প্রভৃতি জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির প্রায় ২৬০ রকম মাছ, ২৪ রকম চিংড়ি/ইচা
পাওয়া যেতো। সময়ের সাথে মনুষ্যসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক কারণে ৫৪ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির খাতায় নাম লিখে।
২০০০ সনে সারা দেশের জলাশয়ে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (IUCN)গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া যায়। বর্তমানে BFRI কর্তৃক গবেষণার মাধ্যমে হারানো
প্রজাতির কিছু মাছের ফিরে আসা লক্ষ্যণীয়। বিলুপ্ত
প্রজাতির মাছের বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে DoF কর্তৃক বিভিন্ন জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রাণিজ আমিষের চাহিদা
পূরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, বেকারত্ব দূর করা, মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানীর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে মৎস্য সেক্টরের অনন্য ভূমিকা
রয়েছে।
বর্তমানে দেশীয় প্রজাতির
সাথে বিদেশ থেকে আগত ১২ প্রজাতির মাছচাষ হয়।
মাছচাষে অধিক উৎপাদন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে জলজ পরিবেশে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি
সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ করা হয়।
পরিমিত হারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগের মাধ্যমে মাছচাষে লাভবান হতে সহায়ক। এক্ষেত্রে, হাতে তৈরি খাদ্যবল/ পিলেট খাদ্য
সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগের ক্ষেত্রে মাছের প্রজাতি, বয়স, আকার, মজুদ ঘনত্ব, জলাশয়ের উৎপাদনশীলতা প্রভৃতি বিবেচ্য বিষয় হিসাবে ধর্তব্য।
তাছাড়া, জলাশয়ের ভৌত-রাসায়নিক-জৈবিক গুণাবলী উৎপাদন কার্যক্রম প্রভাবিত করে থাকে।
সার্বিক বিবেচনায় মাছচাষে যথারীতি পরিমিত হারে নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট স্থানে খাদ্য প্রয়োগ করা বান্ছনীয়।
মৎস্যচাষি/খামারীগণ সংক্ষেপে নিচে উল্লিখিত সূত্রটি মনে রাখলে নমুনায়ন পূর্বক সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগে উপকৃত হতে পারেন।
'WNSR'
W= Weight (নমুনায়নকালে প্রতিটি মাছের গড় ওজন)
N= Number (মজুদকালে মাছের মোট সংখ্যা)
S= Sustainity (মজুদ মাছের বেঁচে থাকার হার)
R= Rate (সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগের শতকরা হার)
উদাহরণঃ
ধরা যাক,
★ আপনার পুকুর/ জলাশয়ে চাষকৃত
প্রতিটি মাছের গড় ওজন ১০ গ্রাম।
★ মজুদকালে মাছের সংখ্যা ১০,০০০ টি।
★ মজুদ মাছের বেঁচে থাকার হার ৯০%।
★ সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগের হার ৫%।
সূত্রমতে:
মোট সম্পূরক খাদ্যের পরিমাণ (কেজি)
১০ × ১০,০০০ × ০.৯০ × ০.৫ = ৪.৫ কেজি।
নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য দুই ভাগ করে দৈনিক
অন্তত: দুইবেলা
(সকাল ৮/৯ টা, বিকাল ৪/৫ টায়) দিন।
উল্লেখ্য যে, পোনা/ মাছের প্রজাতি, আকার,
বয়স, তাপমাত্রা প্রভৃতি বিবেচনায় খাদ্য
প্রয়োগের পরিমাণ কম-বেশী হতে পারে।
তাছাড়া,
নিশাচর মাছের ক্ষেত্রে সন্ধ্যা রাতে ও
ভোরবেলায় খাদ্য প্রয়োগ করা হয়।
রেণু অবস্থায় মাছের দৈহিক ওজনের ৮০-
১০০% ভাগ খাদ্য দৈনিক ৬-৮ বার প্রয়োগ
করলে মৃত্যুহার কম হয়।
ধানী পোনার ক্ষেত্রে ২০% থেকে শুরু করে
পর্যায়ক্রমে খাদ্য প্রয়োগের পরিমাণ
কমতে থাকে। চাষকালিন সম্পূরক খাদ্যের
পরিমাণ মাছের দৈহিক ওজনের ১- ৫%
কম-বেশী হতে পারে।
রেণু পোনার বয়স
১৫-২০ দিন হলে অন্যত্র কাটাই করে নিলে
(দুই ধাপ পদ্ধতি) পোনার মৃত্যুহার কম হয়।
FCR (Food Conversion Ratio):
খাদ্য রূপান্তর হার:
সাধারণত ১ কেজি মাছ উৎপাদনে ব্যবহৃত সম্পূরক খাদ্যের আনুপাতিক হারকে খাদ্য রূপান্তর হার হিসাবে
ধরা হয়।
Copy: কাজী সাইফুল ইসলাম