20/04/2025
একবার ভাবুনতো আপনার মা হারিয়ে গেছে ৪ মাস আগে অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও খুঁজে পাচ্ছেন না।
মানসিক ভারসাম্যহীন মা কোথায় আছে বেচে আছে নাকি মারা গিয়েছে সেটাও জানেন না। মাকে খুঁজে পাওয়ার আশা দিনে দেনে ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে, কারণ মানসিক ভারসাম্যহীন অসুস্থ মা রাস্তাঘাটে কয়েদিনই বা বেঁচে থাকবে?
হঠাৎ একদিন ফোন এসেছে আজাদ সাহেব বলছেন? আপনার মা আমাদের কাছে আছে এসে নিয়ে যাবেন।
অন্য দিক থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন মা দীর্ঘ ৪ মাস যাবত ছেলের কাছে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে, কিন্তু সে ঠিকানা বলতে পারে না শুধু বলে আমার আজাদের কাছে যাব।
গত জানুয়ারী মাসের ৬ তারিখে আমাদের নাম্বারে একটি কল আসে, আমাদের কে বলাহয় ধানমন্ডি লেকের পাশের রাস্তার ফুটপাতে গত ২দিন যাবত একজন বয়স্ক মহিলা পরে আছে তাকে তারা খাবার দিচ্ছে কিন্তু সে খাচ্ছে না কোন কথাও বলছেনা অনেক মাছি পরছে তার শরিরে, তবে সে বেঁচে আছ।
আমাদের টিম যেয়ে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করে এরপরে ওখানে কয়েক দিন তার চিকিৎসা করানোর পরে সে কিছুটা সুস্থ হলে তাকে আমরা নিয়ে আসি আমাদের রাশমনা আপন ঘরে।
তখন সে হাঁটাচলা এমনকি বিছানায় উঠে বসতেও পারতেন না।
এভাবেই চলতে থাকে কিছুদিন.......
কিছু দিনপরে সে যত্ন এবং চিকিৎসায় ধীরে ধীরে কথা বলতে শুরু করে...
বিছানা থেকে উঠে বসতে শুরু করে।
বাচ্চাদের মত একপা দুই পা করে হাঁটতেও শুরু করে। যাকে আমরা বাঁচাতে পারবো কিনা এই চিন্তায় ছিলাম সেই আল্লাহর রহমতে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেল তবে মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার কারণে সে তার ঠিকানা বলতে পারছিল না।
ঐ অবস্থায় আমরা পড়ে গেলাম অন্যরকম এক বিপত্তিতে কারণ এই চাচি তার ছেলের কাছে যাওয়ার জন্য উদ্দীপ হয়ে পড়ল। আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও তার ঠিকানা খুঁজে বের করতে পারছিলাম না সে আমাদেরকে মাঝে মাঝে কিছু জেলা এবং গ্রামের নাম বলতেন তবে আমরা ঐ জেলায় খোঁজ নিয়ে দেখতাম সেখানে ঐ নামে কোন গ্রামই নেই। মাঝে মাঝে সে উত্তেজিত হয়ে যায় তার ছেলের কাছে যাওয়ার জন্য অনেক পাগলামি করতে থাকে। একটা সময় সে নিজের গলায় বটি ধরে এবং আমাদেরকে বলে আমার ছেলের কাছে না নিয়ে গেলে আমি আমার গলা কেটে ফেলবো। সে গেটের তালা খুলে একাই চলে যেতে চায়, আমরা তাকে কোনভাবেই বুঝাতে পারছিলাম না আমরা চেষ্টা করছি তার ছেলের কাছে তাকে পৌঁছে দিতে।
একদিন সে হঠাৎ করে সে নওগাঁ জেলার খান্দই গ্রামের কথা বলে আমরা ওখানে খোঁজ নিয়ে দেখতে পাই তার গ্রামের বাড়ি ঐখানেই এবং সে গত চার মাস যাবৎ ঢাকায় তার ছেলের বাসা থেকে নিখোঁজ হয়৷ সে জানুয়ারির ১ তারিখে আগারগাঁও এর বাসা থেকে একাই হেটে বের হয়ে গিয়েছিল আমরা তাকে জানুয়ারির ৬ তারিখের ধানমন্ডি লেকের পাশে থেকে উদ্ধার করেছি, ছয় দিন সে রাস্তাতেই ছিল।
ছেলে মাকে পেয়ে এবং মা ছেলেকে পেয়ে খুশিতে কাঁদতে থাকে। মানসিক ভারসাম্যহীন মা ছেলের চোখের পানি আচল দিয়ে মুছে দিচ্ছে।
মা এবং ছেলের দেখা হওয়ার মুহূর্তে আমরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।
এই ভালোলাগার অনুভূতি আসলে বলে বুঝানো যাবেনা।