11/03/2026
আধা ঘন্টার পুরো ভিডিওতে যে কয়টি স্লাইড দেখানো হয়েছে, তার কোনটাতেই খেজুরের উল্লেখ নেই। পুরো ভিডিওতে রাস্তা নির্মাণ, খাল খনন, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সের বিস্তারিত তথ্য নিয়েই মূল আলোচনা হয়েছে। সড়ক নির্মাণ, উন্নয়ন কাজের সাথে কে কিভাবে সম্পৃক্ত থাকে সেই তথ্যগুলি দেয়া হয়েছে। এই উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডগুলি কারা কিভাবে করবে, কতদিনের মধ্যে করবে, ইউনিয়ন পরিষদ কি করবে; সকল তথ্যের যে বিস্তারিত ব্যখ্যা দেয়া হয়েছে, হলফ করে বলতে পারি গতকালের আগে শুধু কুমিল্লা-০৪ আসন নয়, বরং বাংলাদেশের বাকি ২৯৯ আসনের অধিকাংশ জনগণও এই তথ্যগুলি জানতেন না। গতকালকেই প্রথম জানলেন। এমনকি আমিও।
ভিডিওর শেষে কথায় কথায় চলমান বরাদ্দের আলোচনার এক ফাঁকে খেজুরের আলোচনা সামনে আসে। এগেইন, এইটা প্রেজেন্টেশনের স্লাইডের মধ্যেও ছিলো না। নেহায়েত কথাপ্রসঙ্গে তোলা এই আলোচনা নিয়েই গতকাল থেকে ফেসবুক সয়লাব। কয়েকটা এনালাইসিস দেখলাম, গাণিতিকভাবে প্রমাণ করতে দেখলাম কিভাবে আসলে খেজুরের বরাদ্দ সকলকে দেয়া সম্ভব না, কিভাবে ওই এক আসনে অধিক খেজুর গেলো ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ পুরো ভিডিও দেখলে যে কেউ বুঝবে, এইখানে খেজুরের বরাদ্দের হিসাবটা ছিলো সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।
চোরদের নিয়ে এই এক সমস্যা। পুকুরচুরি যখন সামনে চলে আসে তখন এরা সেটি ঢাকতে অন্য আলাপে মশগুল হয়। রাস্তা নির্মাণের কাজের অগ্রগতি বা খাল খননের আপডেট নির্ভর একটা ত্রিশ মিনিটের ভিডিও থেকে তারা খুঁজে বের করেছে কেবল খেজুর। কারণ বাকিগুলো নিয়ে যদি আলোচনায় যায়, পরনের লুঙ্গি আর থাকবে না। এই সত্য তারাও জানে। যে কারণে সেই আলোচনায় তারা কখনো যাবেও না।
ক্রিটিক্যালিও যদি ব্যাপারটাকে দেখি, তাহলে সম্ভাবনা আছে সামনের দিনগুলিতে হাসনাত আব্দুল্লাহ শুধু নিজের কম্ফোর্টের মাঝে যে হিসেবগুলি থাকবে শুধু সেগুলির তথ্য পাবলিক করবে, বাকি তথ্য যেগুলি সে পাবলিক করতে চায় না, সেগুলি সে করবে না। এই সম্ভাবনাকে আমি পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছি না। সকল পদক্ষেপকে সন্দেহের চোখে রাখতে পারাটাই অন্ধভক্তি থেকে বের হওয়ার প্রথম ধাপ। তবে আমার কথা হলো, সে অন্তত দুই-চারটা রাস্তা আর খালের হিসাব তো অন্তত দিয়েছে এসে, সামনের প্রেজেন্টেশনে অন্য সকল হিসাব লুকাইলেও এই কয়টা রাস্তা-খাল-প্রজেক্টের বাকি হিসাব তো অন্তত সে দিতে বাধ্য। এইগুলা তো আর লুকানোর সুযোগ নাই। অন্তত এবসলিউট ব্ল্যাংকচেক যে সে পাচ্ছে না, এইটা তো নিশ্চিত।
তা সম্মানিত খেজুর গবেষকের দল, তোর এলাকার এমপি কি একটা পয়সারও হিসাব কোনদিন দিসে তোরে? জীবনে কোনদিন হিসাব পাইসস একটা টাকার? হিসাব পাওয়া দূরে থাকুক, যেই এমপির পিছে দিনরাত দৌড়াস, সেই এমপি কোনদিন ভয়ছাড়া মুখের উপরে একটা প্রশ্ন করারও স্পেইস কোনদিন তোদের দিসে?
দেয় নাই? আহারে সোনা! তা এজন্যেই কি এত রাগ তোমাদের? ☹️
source For:
Kamrul Islam