22/05/2026
শিশু রামিসাসহ সারাদেশে অব্যাহত খুন-ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বরিশালে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও মহিলা ফোরামের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত
আজ ২২ মে সকাল ১০ টায় অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এবং সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বরিশাল জেলার শাখার উদ্যোগে শিশু রামিসা হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার আহ্বায়ক সুজন আহমেদ ও পরিচালনা করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারজানা আক্তার। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডাঃ মনীষা চক্রবর্ত্তী, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বরিশাল জেলা শাখার সদস্য ইসমাত আরা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার সদস্য এবং বরিশাল হোম ইকোনমিক কলেজের সংগঠক উম্মে হালিমা লাবনী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সরকারি ব্রজমোহন কলেজ শাখার সদস্য মোঃ রাকিবুল হাসান, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সংগঠক লামিয়া সাইমুন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট হালিমা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয় শাখার সংগঠক নাজলা আক্তার মিম প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে প্রথমে ধর্ষণ পরে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। একজন শিশুকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, সমগ্র সমাজের জন্য ভয়াবহ ও আতঙ্কজনক বার্তা বহন করে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, "আমরা নিহত রামিসার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।"
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গত ৭ দিনে দেশে চারজন কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে শিশু ও নারীর ওপর ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা প্রমাণ করে- রাষ্ট্র শিশু ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। মাগুরার ৮ বছর বয়সী শিশু আছিয়াকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় সারাদেশ বিচারের দাবিতে আন্দোলনে শামিল হয়েছিল। এক বছর হয়ে গেল বিচার এখনও কার্যকর হয়নি। বিচারহীনতার রেওয়াজ, সামাজিক অবক্ষয়, নারীকে ভোগের বস্তু হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, মাদক ও সহিংসতার বিস্তার এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক-সামাজিক প্রশ্রয়- সবই এ ধরনের বর্বরতার পেছনে কাজ করছে।
বক্তারা বলেন, শুধু বিচ্ছিন্ন কিছু গ্রেপ্তার বা সাময়িক তৎপরতা অথবা ভিক্টিমের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে এই পরিস্থিতির সমাধান হবে না। প্রয়োজন দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, অপরাধীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক আশ্রয় বন্ধ করা এবং নারী ও শিশুর প্রতি বৈষম্যমূলক ও সহিংস মানসিকতার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখা।
বার্তা প্রেরক
উম্মে হালিমা লাবনী, সদস্য, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বরিশাল মহানগর শাখা।